ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের বেশি কখনো না কখনো অনলাইনে হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নারী প্রায় ৫৩ শতাংশ। এই নারীদের বেশির ভাগ আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হন।
আরেক জরিপে দেখা যায়, অশালীন ভিডিও, বার্তা ও ছবির মাধ্যমে অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছে শহরের ৬৪ শতাংশ এবং গ্রামের ৩৩ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ হয়রানির শিকার হয় ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা আইডির মাধ্যমে।
সূত্র: প্রথম আলো- অনলাইনে ৫৩% নারী সহিংসতা–হয়রানির শিকার
আমার ধারণা এই হার আরো বেশি। এধরণের বিব্রতকর ঘটনাগুলো নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। কারণ, এগুলোর মধ্যে মন খারাপ করে দেওয়ার একটা ম্যাজিক্যাল ক্ষমতা আছে। আপনি যখনই স্মৃতি হাতড়ে ওখানে যাবেন, তখনই মন খারাপের ধোঁয়ায় আপনার বিমর্ষ লাগবে।
সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগবে যখন আপনি দেখবেন, সমাজের কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি বা অনলাইনের কোনো মিনি সেলিব্রেটি আপনার সাথে অসভ্যতা করছে এবং সেটা প্রকাশ করার পর কেউ আপনার কথা বিশ্বাস করছে না।
এই যেমন উপরের ওই নিবন্ধতে বলা হয়েছে,
"সাইবার হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের জীবনে কী প্রভাব পড়েছে, সে সম্পর্কে একাধিক মত প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা।
৭১ শতাংশ জানিয়েছেন ঘটনাগুলো তাঁদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
৫২ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, এসব হয়রানি তাঁদের স্বাধীনভাবে চলাচল ও মতপ্রকাশে বাধা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ।
সামাজিকভাবে হেয় ও বিব্রত হয়েছেন ৩০ শতাংশ;
এ ছাড়া ২৪ শতাংশ আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগেছেন, ১৯ শতাংশ নিপীড়িত হচ্ছেন—এমন অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
১৪ শতাংশের বেশি হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়ে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।"
সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগবে যখন আপনি দেখবেন, সমাজের কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি বা অনলাইনের কোনো মিনি সেলিব্রেটি আপনার সাথে অসভ্যতা করছে এবং সেটা প্রকাশ করার পর কেউ আপনার কথা বিশ্বাস করছে না।
বলাবাহুল্য, এসব হয়রানির সিংহভাগের শিকার নারী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর কিশোরীরা। আমি এবং আমার পরিচিত প্রায় সব মেয়েই কোনো না কোনোভাবে এধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।
অনলাইনে আমি সবসময়ই কিছুটা রক্ষণশীল। সেজন্য অনলাইন বন্ধুরা আমাকে নিয়ে একরকম মজাই করত। কিন্তু বেশ কিছু ঘটনার পর তারাও আমার সাথে একমত হয়েছে যে অনলাইনে অনেক বুঝেশুনে থাকতে হয়। বলা যেতে পারে, হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
আজ আমি আমার কোরাসখা-সখীদের কিছু কথা বলতে চাই। গ্রাহ্য করা বা না করা তাদের এখতিয়ার।
দেখুন, আমি এখন যার সাথে অনলাইনে বার্তা আদান-প্রদান করছি, তার কিন্তু কোনো 'ফিজিক্যাল এক্সিস্টেন্স' বা 'বাস্তব অস্তিত্ব' আমি সরাসরি দেখতে পাচ্ছি না। হতেই পারে, মেয়ে ভেবে যার সাথে কথা বলছি, সে আসলে একটা ছেলে। তাই নিজের ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য (বিশেষ করে মোবাইল নম্বর) অনলাইনে পরিচিত কাউকেই দেওয়া উচিত নয়।
অনলাইনে অন্তত বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। আমি বলছি না একেবারেই ছেড়ে দিতে। সত্যি বলতে অনলাইন জগতে একে অপরের সাথে প্রয়োজনীয় টুকটাক কথা আমরা সবাইই বলি। কিন্তু এতটা ঘনিষ্ঠতা না আনাই ভালো যাতে কোনো একসময় অপরজন সম্পর্কটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিতে পারে।
অনলাইন প্রেম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারণা এবং অপূর্ণতার। অন্তত দৈনিক খবরের কাগজগুলো সেই কথাই বলে।
অনলাইনে যেচে বন্ধু বানানোর চেষ্টা না করাই ভালো। কিছু বন্ধু অনলাইন জগতে চলার পথে এমনি জুটে যাবে; এর অতিরিক্ত বানিয়ে লাভ নেই। আপনি মরলে এরা কেউ আপনার জানাজায়ও আসতে পারবে না। হতে পারে, এরা আপনার মৃত্যু সংবাদই পাবে না।
অনলাইনে কেউ যদি খারাপ মন্তব্য বা তর্ক করে, তবে ইগনোর করাই সবচেয়ে ভালো পন্থা। কী বলুন তো, দেশ-সমাজ নিয়ে আমার এত দুর্ভাবনা দেখে কেউ আমাকে ভালো কলেজে অ্যাডমিশন পাইয়ে দেবে না। আর যেই সাইকোর সাথে আমি তর্ক করছি, সে আমার চলে যাওয়া সময়টুকু ফিরিয়ে দিতে পারবে না।
তার সময়টা তার কাছে সম্ভবত ততটা মূল্যবান না যতটা আমার কাছে আমার সময় মূল্যবান।
এছাড়া বড় ধরণের কোনো হয়রানির ঘটনা ঘটলে পুলিশি সহায়তা নেওয়া উচিত
