কম্পিউটারে ভাইরাস বা অন্য যেকোন ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কোন তথ্য পেলে বা যদি সন্দেহও হয় যে, কম্পিউটারে ম্যালওয়ার ঢুকেছে তাহলে সাথে সাথেই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। আমি এই পদক্ষেপ গুলোকে দুইটি মূল ভাগে ব্যাখ্যা করছি।
১. তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ :
প্রথমেই আক্রান্ত ডিভাইসকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। তবে পাওয়ার অফ করবেন না। এতে করে ম্যালওয়ার তথ্য চুরি করতে পারবে কম বা একটিভ হওয়া থেকে বাঁধা দেয়া যাবে কিছুটা।
কোন কোন ডিভাইসে ম্যালওয়ার এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে সেটা খুঁজে দেখুন। কারণ কখনো কখনো একসাথে একাধিক ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি একটা ডিভাইস থেকে ম্যালওয়ার মুছলে আরেক ডিভাইস থেকে আবার ম্যালওয়ার ঢুকবে কম্পিউটারে।
কোন উপায়ে আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়ার প্রবেশ করলো সেটা বোঝার চেষ্টা করুন (যতদূর সম্ভব)। যেমন খুঁজে দেখুন যে, আপনি কোন অপরিচিত সাইট থেকে কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড করেছিলেন কিনা বা কোন লিংকে ক্লিক করেছিলেন কিনা - এমন।
যদি খুঁজে পান যে আপনার ইমেইল বা ওয়েবসাইট থেকে ম্যালওয়ারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বা অন্য কোথাও থেকে, তাহলে সেগুলোর তথ্য পরিবর্তন করে ফেলুন দ্রুত। যেমন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা ২ ফ্যাক্টর অন করা প্রভৃতি।
২. ম্যালওয়ার রিমোভ :
প্রথমেই আপনার ডিভাইস থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো ফেলে দিন। কারণ ম্যালওয়ার অনেক সময় এই সফ্টওয়ার ব্যবহার করে একটিভ থাকতে পারে।
এরপর আপনি আপনার ডিভাইসে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন। যদি আগে ইন্টারনেট কানেকশন অফ করে দেন তাহলে কোন পেনড্রাইভ বা মেমোরি ডিভাইসের মাধ্যমে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করুন। আর যদি ইন্টারনেট কানেকশন অফ করা সম্ভব না হয় তাহলে অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।
এন্টিভাইরাস হিসেবে প্রথমেই malwarebytes ডাউনলোড করুন। তাৎক্ষণিক ভাবে ম্যালওয়্যার খুঁজে বের করার জন্য এটার পারফর্মেন্স অনেক ভাল। লিংক : Download Malware Removal | Free Antivirus Scan & Virus Protection Tool
এরপর নিয়মিত ম্যালওয়ার স্ক্যান করার জন্য kaspersky বা bitdefender সেটাপ করুন। অনলাইনে এগুলোর ক্র্যাক ভার্সন পাওয়া যায়। ভুল করেও সেগুলো নামাবেন না। কারণ ক্র্যাক নিজেই একটা ম্যালওয়ার। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এজেন্ট থেকে এন্টিভাইরাসের প্রিমিয়াম কিনে নিন। প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাসের দাম খুব বেশি নয়। বছরে ৮০০-১০০০ টাকা মতো হয়ে থাকে।
# সংক্রমণ পরবর্তী :
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার ডিভাইস গুলোকে - full scan দিবেন। কারণ কিছু ম্যালওয়ার অনেক সময় দেরিতে লক্ষণ প্রকাশ করে যাতে এন্টিভাইরাস তাকে খুঁজে না পায়। আগে কিছুদিন চুপচাপ থাকে তারপর তার কাজ শুরু করে। তাই নিয়মিত মনিটরিং এ রাখলে অনেকটাই নিরাপদে থাকবেন।
;;;;;;;;
আপনার কম্পিউটারকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করুন। এটি ভাইরাসের প্রসার রোধ করতে সাহায্য করবে।
আপনার কম্পিউটারে একটি ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করুন এবং আপনার কম্পিউটারটি স্ক্যান করুন। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ভাইরাসগুলি সনাক্ত এবং অপসারণ করতে পারে।
আপনার কম্পিউটারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলি ব্যাকআপ করুন। যদি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ভাইরাসগুলি অপসারণ করতে না পারে, তাহলে আপনাকে আপনার ফাইলগুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে।
আপনার কম্পিউটারের সফ্টওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার আপডেট করুন। আপডেটগুলি আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকেছে বলে মনে হলে, এটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। ভাইরাসগুলি আপনার কম্পিউটারের ফাইলগুলিকে ক্ষতি করতে পারে, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে, বা আপনার কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এখানে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস থাকতে পারে:
আপনার কম্পিউটার ধীর হয়ে যায় বা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
আপনার কম্পিউটারের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলি চলছে।
আপনার কম্পিউটার অপ্রত্যাশিত উইন্ডো বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছে।
আপনার কম্পিউটার থেকে অপ্রত্যাশিত ইমেল বা বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
আপনার কম্পিউটারের ফাইলগুলি বা অ্যাপ্লিকেশনগুলি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
.