এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর কেউ দেয় না, আমিও দেই না, বলতে গেলে এমন প্রশ্ন অনেকটা এমন যে আমি গরু চুরি করতে চাই, কীভাবে করলে ধরা পড়ার ভয় নেই। এর আর কী উত্তর হতে পারে? (ব্যক্তিগত আক্রমণ ভেবে বসবেন না যেন, ব্যাখ্যা করছি, তাহলে স্পষ্টতা পাবেন।)
হ্যাকার হতে হলে সবার আগে বুঝতে হবে হ্যাকিং কী, হ্যাক কী এবং হ্যাকার কাদের বলে? এর মাঝেই রয়েছে প্রশ্নের উত্তর।
সাইবার হ্যাকার বলতে বোঝায় সাইবার জিনিয়াস। যাদের নখদর্পণে থাকে সাইবার নিরাপত্তার খুঁটিনাটি। এমন কেউ হতে চাইলে অবশ্যই কম্পিউটার, ইন্টারনেট, নেটওয়ার্কিং, বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রোগ্রামিং ভাষা (সি, অ্যাসেম্বলি, বেসিক, পাইথন, প্যাসকেল, ইত্যাদি), গণিত, ইংরেজি ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হতে হবে। প্রচুর সময় দিয়ে হবে, প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে, এবং প্রচুর চর্চা করতে হবে।
ইন্টারনেটের জগৎ যেহেতু কোন দেশ কেন্দ্রিক নয়, তাই বাংলাদেশ কিংবা আমেরিকা এখানে কোন বিষয় না।
আর ইথিক্যাল হ্যাকারকে তুলনা করা যায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, যারা খুন করলে হয় বীরত্ব, আর সাধারণ মানুষ খুন করলে বলা হয় খুনী। হ্যাকার তো হ্যাকারই। যখন দেশের প্রয়োজনে কোন কিছু হ্যাক (অন্য দেশের কিংবা দেশের প্রয়োজনে কোন ব্যাক্তির তথ্য হাতিয়ে নেয়া হবে তখন সেটা হবে বীরত্ব [ইথিক্যাল], আবার অন্যের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিলে ওটা হবে অপরাধ [আনইথিক্যাল]।)
আর একটা ব্যাপার, হ্যাকার সম্পর্কে সিনেমা নাটকে যা দেখানো হয় বাস্তব প্রেক্ষাপট তেমন না। বাস্তবে এসব বিষয় অনেক সময় সাপেক্ষ বিষয়, ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড বের করতেও কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
হ্যাকার হতে হলে সবার আগে প্রয়োজন এ জগৎ (সাইবার জগৎ) সম্পর্কে অসীম ভালোবাসা। এবং প্রচুর সময়।
একটা বিষয় দেখুন কেউ যদি ফেসবুকের পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে চায় তাকে লড়তে হবে ফেসবুকের সামগ্রিক সিকিউরিটির বিপক্ষে, যেখানে অগণিত দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে খুঁজে বের করতে হবে তাদের নিরাপত্তার ক্রুটি, তারপর সেই ক্রুটিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাক করতে হবে। আর এই ক্রুটি খুঁজে বের করা নিশ্চয়ই একমুহূর্তের ব্যাপার নয়।